ঘুরে আসতে পারেন মসজিদ, মন্দির, দুর্গে ঘেরা দিল্লি শহর

নিজামউদ্দিন আউলিয়া এলো” গানের কলি শোনেনি এমন মানুষ  খুব কম আছে। ভারতের রাজধানী দিল্লির ব্যাপার-স্যাপারই আলাদা। মসজিদ, মন্দির, দুর্গে ঘেরা ভারতের দিল্লিতে ঘুরতে যায় প্রতিবছর প্রচুর বাঙালি, তা সে কলকাতারই হোক আর বাংলাদেশের। দিনের বেলার কাঠফাটা গরম আর রাতের জমজমাট উৎসবের শহর দিল্লি। বাংলাদেশ থেকে দিল্লি যাওয়া যায় দুই উপায়ে, সড়কপথে আর আকাশপথে। আকাশপথে বিমান ভাড়ায় খরচ হতে পারে যাওয়া-আসা মিলিয়ে দশ-বারো হাজার টাকার মতো যদি এক-দুই মাস আগে থেকে টিকেট কাটা হয়।

সড়কপথে যেতে চাইলে বেনাপোল দিয়ে আগে পৌঁছাতে হবে কলকাতায় অথবা আখাউড়া দিয়ে এিপুরা বিমানে ও যাওয়া যায় । কলকাতা থেকে দিল্লির প্রচুর ট্রেন ছেড়ে যায়, সবচেয়ে ভালো হলো রাজধানী এক্সপ্রেস। কলকাতা থেকে দিল্লির ট্রেন ভাড়া ননএসি ৬০০ থেকে ১,২০০ রুপির মতো, পৌঁছাতে সময় লাগে ২৩-২৪ ঘণ্টা। যাওয়ার ব্যবস্থা তো হলো, এবার দিল্লি নেমে ঘুরবেন কোথায়? 

হুমায়ুনের দুর্গ 

মূল শহর থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে এই অসামান্য দুর্গ যতটা এর কারুকার্যের জন্য বিখ্যাত তার চেয়েও বিখ্যাত এই কারণে যে এটা ভারতীয় উপমহাদেশের সর্ব প্রথম বাগান-দুর্গ। মানে পুরো দুর্গের এলাকা জুড়ে রয়েছে নয়নাভিরাম অপরূপ সব ফুলের আশ্রয়স্থল বিশাল এক বাগান। সম্রাট হুমায়ুনের ছেলে সম্রাট আকবর ১৫৬৯-৭০ সালের মধ্যে এই দুর্গ নির্মাণ করেন। ১৯৯৩ সালে ইউনেস্কো এই দুর্গকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করে।

নিজামউদ্দিন দর্গা

সেই গানের কলির কথায় উঠে আসা নিজাম উদ্দিন আউলিয়া ছিলেন তৎকালীন মুঘল সাম্রাজ্যের মুসলিম পীরদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত। দিল্লি থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তাঁরই পবিত্র মঠ যা দিল্লিতে নিজামউদ্দিনের দর্গা হিসেবে পরিচিত। তৎকালীন মুসলীম সুফি যারা ছিলেন প্রায় অধিকাংশের সমাধিস্থল এখানে অবস্থিত। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন জাহান আরা বেগম এবং ইনায়েত খান। দর্গার পবিত্রতা তো বটেই, এই দর্গায় প্রতি সন্ধ্যায় যে সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, তা সত্যিই হাতছাড়া করার মতো নয়।

কুতুব মিনার 

বিশ্বের একক সর্বোচ্চতার মিনার হলো কুতুব মিনার। উচ্চতায় ঠিক ২৩৪ ফুট এই মিনারটি। মূল শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরের এই মিনার মুঘল স্থাপত্যের দৃষ্টিনন্দন এক সৃষ্টি।

জন্তর মন্তর

মহারাজা দ্বিতীয় জয় সিং পুরো ভারতে মোট ৫টি এমন স্থাপনা নির্মান করে গিয়েছিলেন যা পরবর্তী প্রজন্মকে মহাকাশ বিজ্ঞানি বা এস্ট্রোনট হিসেবে তৈরি হতে অনুপ্রেরণা যোগাবে। সেই পাঁচটি স্থাপনার প্রতিটির নামই জন্তুর মন্তর। রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরের মতো দিল্লিতেও রাজা দ্বিতীয় জয় সিং তৈরি করেছিলেন জন্তর মন্তর। মোট ১৩টি জ্যােতির্বিদ্যার স্থাপনা রয়েছে এখানে। জ্যােতির্বিজ্ঞানের আকাশ-ছক মেলানো আর চন্দ্র-সূর্যের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করাই ছিল জন্তর-মন্তরের প্রধান কাজ, এখন অবশ্য এটি বিজ্ঞান পার্কে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞানপ্রেমী যে কেউ নির্দ্বিধায় ঘুরে আসতে পারেন এখান থেকে।

Leave a comment

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Please wait...

Subscribe for latest Update

Want to be notified when our article is published? Enter your email address and name below to be the first to know.

Chief Editor: Mosharaf Chowdhury, Editor: Zia Uddin Dulal
New York Office: PO Box No- 310611, Jamaica, Ny-11431, Bangladesh office: College Road, Rajnagor, Habiganj-3300.
Tel: Chief Editor- +17186009625, Editor- +88083154394, +8801717278767, Email: nybnews24@gmail.com
Copyright © | nybnews24.com
Designed by Acrylic Live
error: Content is protected !!