শিশু খায় না বলে ডাক্তারের কাছে যাবেন না

NYB News24 ডেস্ক: প্রথমেই বলি, শিশুর খাবারে অনীহার ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা কিন্তু মায়েদেরই দোষ দিয়ে থাকেন।  ৮০ এর দশকের নামকরা শিশু বিশেষজ্ঞ আকবর আলীর চেম্বারের দরজাতেই লেখা থাকত, ‘শিশু খায় না। এই অভিযোগ নিয়ে কেউ এখানে আসবেন না।’

এর ব্যাখ্যাও তিনি দিতেন নিজের জীবনের উদাহরণ দিয়ে। বলতেন, ‘আমরা ছিলাম দশ ভাই বোন। আমারে মায়ের অত সময় ছিল না যে ছেলেমেয়েদের পেছনে খাবার নিয়ে ঘুরবেন। আমরা ভাই বোনরা কাড়াকাড়ি করে খেয়েই কুল পেতাম না।’

বিষয়টি আসলেই সত্য। এখনকার মায়েদের মাত্র একটি বা দুটি সন্তান। সেই সন্তানের খেভালের জন্য রয়েছে আরও অন্তত একজন বা দুইজন গৃহকর্মী। তাই এই সন্তানকে খাওয়াতেই তিনি পার করে দেন দিনের একটি সময়।

এই মা রা বুঝতে চান না যে, শিশুর পাকস্থলী আর তার পাকস্থলী এক সমান নয়। শিশুর শরীরের চাহিদা যতটুকু, ততটুকুই সে খাবে। তাছাড়া এক বার খ্ওায়ার পর সেটি হজম হতেও তো সময় দিতে হবে।

আমরা যদি দুই ঘণ্টা পর পর একটি এক বছরের শিশুকে খাওয়াতে চাই, তবে সেটি তার জন্য অত্যাচার হয়ে যাবে। আরও অত্যাচার হবে, যখন শিশুটিকে জোর করে খাওয়ানোর পর সে বমি করে দেয় এবং ‘সব খাবার বের হয়ে গেল’ ভেবে মা আবারো ঠেসে ঠেসে খাবার ঢুকিয়ে দেন তার মুখে।

নবজাতকের খাদ্যাভ্যাসের কথাই বলি। শিশু বিশেষজ্ঞরা ক্রমাগত বলে চলেছেন, মায়ের শালদুধ হবে নবজাতকের প্রথম খাবার। জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শালদুধ (গাঢ় এবং হলদেটে) দিতে পারলে শিশু মৃত্যুর হার ৩৭ শতাংশ কমে যায়।

মায়ের দুধে থাকে প্রায় ২৫০ উপাদান। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, শিশুর সার্বিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে যথেষ্ট। তাই বারে বারে শিশুকে মায়ের দুধ দিতে হবে। শিশু যখনি চাইবে, তখনই।

শিশু কাঁদলে, মুখে হাত দেয়ার চেষ্টা করলে বুঝতে হবে তার ক্ষুধা পেয়েছে। শিশু দিনে ছয় বার প্রস্রাব করলে বুঝতে হবে সে যথেষ্ট পরিমাণ দুধ পাচ্ছে।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শিশুর দাদি, নানিরা মায়ের কানের কাছে ক্রমাগত বলতে থাকেন যে, বাচ্চার ক্ষুধা মিটছে না। বাচ্চা শুকিয়ে যাচ্ছে।

মায়ের দুধ শিশুর মস্তিস্ক বা বুদ্ধিমত্তার বিকাশেও সহায়ক। সেই সঙ্গে মায়ের সাথে শিশুর আবেগীয় সম্পর্ক জোরদার করে এক্সক্লুসিভ বেস্টফিডিং বা শুধু বুকের দুধ। ছয় মাস পর্যন্ত এটি চালাতে বলেন চিকিৎসকরা।

তাই মায়ের দুধের পাশাপাশি গুঁড়া দুধ দিতে জোরাজুরি করতে থাকেন তারা। এতে যে ফল হয়, তা হলো শিশুটি খেতে বেশ নাদুস নুদুস হয়। কিন্তু কমে যায় তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। বেড়ে যায় পেটের অসুখ।

Leave a comment

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Please wait...

Subscribe for latest Update

Want to be notified when our article is published? Enter your email address and name below to be the first to know.

Chief Editor: Mosharaf Chowdhury, Editor: Zia Uddin Dulal
New York Office: PO Box No- 310611, Jamaica, Ny-11431, Bangladesh office: College Road, Rajnagor, Habiganj-3300.
Tel: Chief Editor- +17186009625, Editor- +88083154394, +8801717278767, Email: nybnews24@gmail.com
Copyright © | nybnews24.com
Designed by Acrylic Live
error: Content is protected !!