আজ ৪ঠা জুলাই আমেরিকার মহান স্বাধীনতা দিবস

142

মোশারফ চেীধুরী: আজ ৪ঠা জুলাই আমেরিকার মহান স্বাধীনতা দিবস। এ বছর দিনটি পড়েছে শনিবার। গত ২৪৩ বছর ধরে ৪ জুলাই আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। এবার ২৪৪ তম স্বাধীনতা দিবস। এক সময় আমেরিকা ব্রিটেনের কলোনী ছিলো। ১৭৭৬ সালের ২ জুলাই কংগ্রেস ভোট দেয় স্বাধীনতার পক্ষে। তারা ঘোষণা দেয় যে আমেরিকার ১৩টি কলোনী এখন স্বাধীন এবং ঐক্যবদ্ধ।

প্রতিটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে থাকে অনেক আত্মত্যাগের ইতিহাস। স্বাধীনতার জন্য রক্ত, জীবন, সম্ভ্রম দিতে হয়। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম করতে হয়।আমেরিকার মানুষকেও ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিন লড়াই করতে হয়েছে। জীবন দিতে হয়েছে। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অবশেষে ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই চূড়ান্তভাবে ইংল্যান্ডের ঔপনিবেশিক শাসন হটিয়ে পরম কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা অর্জন করতে হয়।

এখন আমেরিকার ৫০টি স্টেট। বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে তারা ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকার সঙ্গে যুক্ত হয়। কিছু স্বেচ্ছায়, কয়েকটি মেক্সিকো ও রাশিয়ার কাছ থেকে কিনে নেওয়া। ইতিহাস বলে, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আমেরিকার বিপ্লব চলাকালে ১৭৭৬-এর ২ জুলাইয়ে যখন দ্বিতীয় কন্টিনেন্টাল কংগ্রেসে স্বাধীনতার প্রস্তাব ভোটে গৃহীত হয়, তখনই প্রকৃত অর্থে আমেরিকার ১৩টি স্টেট ব্রিটেনের উপনিবেশ থেকে মুক্ত হয়ে যায়। ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রস্তাবটি ৭ জুন উত্থাপন করেন ভার্জিনিয়ার রিচার্ড হেনরি লি। স্বাধীনতার পক্ষে ভোটদানের পরই কংগ্রেস ডিক্লারেশন অব ইনডিপেন্ডেন্স রচনায় মনোনিবেশ করেন। এই ঘোষণা প্রণয়নের জন্য ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এর প্রধান হিসেবে মনোনীত হন রাজনীতিবিদ, লেখক, রাষ্ট্রনায়ক এবং আমেরিকার তৃতীয় প্রেসিডেন্ট (১৮০১-০৯) থমাস জেফারসন, চূড়ান্তভাবে যা গৃহীত হয় ৪ জুলাই। আর সে কারণে ৪ জুলাই আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে।

যাকে আমেরিকার ফাউন্ডিং ফাদার মনে করা হয়, সেই রাজনৈতিক নেতা, সামরিক জেনারেল, যিনি দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে বিজয় অর্জনে প্যাট্রিয়ট ফোর্সের নেতৃত্বদানকারী জর্জ ওয়াশিংটন হন স্বাধীন-সার্বভৌম আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট (১৭৮৯-১৭৯৭)। তিনি ৪ মার্চ ১৭৮৯ জাতীয় সরকারের দায়িত্ব নিয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনফেডারেশন কংগ্রেস গঠিত হয় ওইদিনই নতুন সংবিধান অনুমোদনের মধ্য দিয়ে। বহু তর্ক-বিতর্কের পর ১২টি সংশোধনীসহ (বিল অব রাইটস) জাতীয় সরকার গঠন, মৌলিক আইন প্রণয়ন ও নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ অনুমোদন করে ফিলাডেলফিয়ায় সাংবিধানিক কনভেনশনে ডেলিগেটরা নতুন সংবিধানে স্বাক্ষর করেন। এতে দেলোয়ারে প্রথম সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন দেয় (৩০-০ ভোটে), ৭ ডিসেম্বর ১৭৮৭-তে।

আমেরিকার সংবিধানে শুরু থেকে আজ অবধি মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা, কথা বলা, লেখার, চিন্তার অধিকার সংরক্ষণে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আসা হচ্ছে। এছাড়া বিশ্বের যেকোনো অঞ্চলের নির্যাতিত মানুষের নিরাপদ এবং নতুন স্বপ্ন রচনার আশ্রয়দাতা হিসেবে আমেরিকার দায়িত্বকে মেনে নেওয়া হয়েছে।

৪ জুলাই আমেরিকার জাতীয় ছুটির দিন। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পুরো আমেরিকা জুড়ে আলোকসজ্জা, আতশবাজি, প্যারেডের ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়াও অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে বারবাকিউ পার্টি, মেলা, বনভোজন এবং ফ্যামেলি রিউইনিয়নের ব্যবস্থা করে থাকেন। ৪ জুলাই উপলক্ষে বড় বড় স্টোরগুলোতে বিশেষ সেল দেয়া হয়। নিউইয়র্কে মেসির পক্ষ থেকে আতশবাজির ব্যবস্থা করা হয় ইস্ট রিভারে। ঐ দিন দুপুর থেকেই সবাই আতশবাজি দেখার জন্য বিভিন্ন পার্ক ও নদীর পাড়ে জমায়েত হতে থাকেন। অন্যান্য কম্যুনিটির লোকজনের পাশাপাশি বাংলাদেশীরাও আতশবাজি দেখতে যান এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন।

(Visited 29 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here