আমেরিকায় মৃত্যুর স্মৃতি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের ঈদ উদযাপন,করোনায় আরও ১ জনের মৃত্যু

143

করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে আমেরিকায় ২৬৫ বাংলাদেশির মৃত্যুর বেদনাবহ স্মৃতি নিয়ে ২৪ মে দেশটিতে ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। কড়া নির্দেশনাবলি অনুসরণ করে এবার ধর্মীয় সমাবেশ পালন করল মুসলমানগন।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার থেকে নিউইয়র্কে অনধিক ১০ জন নিয়ে ধর্মীয় সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল ।ধর্মীয় সমাবেশে যোগদানকারীরা সামাজিক দূরত্ব নির্দেশাবলি মেনে প্রত্যেককে মাস্ক ও হাতে গ্লাভস পড়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় নিউইয়র্কে আরো একজন বাংলাদেশী প্রাণ হারিয়েছেন। এ নিয়ে করোনা আমেরিকায় ২৬৫ জন বাংলাদেশীর জীবন কেড়ে নিলো। গত ২২ মে নিউইয়র্কের কুইন্সে ইস্ট এলেমহার্স্টের বাসিন্দা হাজী মুজিবুর রহমান মজনু মিয়া করোনায় আক্রান্ত হয়ে বিকেল ৬টা ১০ মিনিটের সময় ফ্লাশিং হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে… রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬৭ বছর।

জানা গেছে, হাজী মুুজিবুর রহমান মজনু মিয়া ২ সপ্তাহ আগে করোনায় আক্রান্ত হলে তাকে ফ্লাশিং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।মুজিব সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ইলাশপুরের বাসিন্দা। তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য স্বজন রেখে গেছেন।

এদিকে ২৩ মে আমেরিকায় এক দিনে করোনায় সংক্রমিত ৪৩ হাজার মানুষ সুস্থ হয়েছেন। এটি এক দিনে সর্বোচ্চ সুস্থ হওয়ার রেকর্ড। এর আগে ১২ মে এক দিনে সুস্থ হয়েছিলেন ৩৪ হাজার। আমেরিকায় করোনাভাইরাস মধ্য মার্চ থেকে নাজুক পরিস্থিতিতে চলে আসে, এরপর সুস্থ হওয়ার চিত্র ছিল খুবই হতাশাজনক। নিউইয়র্কে শনাক্ত প্রায় ৩ লাখ ৬৯ হাজার মানুষ আর মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ১১২ জনের।

করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ মে রবিবার পর্যন্ত প্রাণ গেছে ৯৯ হাজার ৩ শত জনের । মোট আক্রান্ত ১৬ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪ লাখ ৩ হাজার মানুষ ।করোনার সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছে নিউইয়র্কে। যেখানে প্রাণহানি ২৯ হাজার ২ শত ৩১ জন। আক্রান্ত ৩ লাখ ৭১ হাজারের বেশি। এরপরেই রয়েছে নিউ জার্সি। যেখানে ভাইরাসটি হানা দিয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজারেরও বেশি মানুষের দেহে। যাতে প্রাণ গেছে ১০ হাজার ৯৮৬ জনের।

নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, ম্যাসাচুসেটস, ইলিনয়, ক্যালিফোর্নিয়া,পেনসিলভানিয়া, টেক্সাস ও মিশিগানে শনাক্ত ও মৃত্যু অব্যাহত রয়েছে। এর পরও অধিকাংশ নগরী ধাপে ধাপে খুলে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে নিউইয়র্কে শুধু ধর্মীয় নয়, অন্যান্য জমায়েতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাও শর্ত সাপেক্ষে শিথিল করা হয়েছে।

নিউইয়র্ক সিটির গভর্নর এন্ড্রু কুমো জানিয়েছেন, জুনের প্রথম অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহে নিউইয়র্ক সিটি খুলে দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, নিউইয়র্ক সিটিতে করোনায় ১৯.৯% মানুষ আক্রান্ত হয়েছে।

(Visited 18 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here