উপকুলে বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব

113

ডেস্ক রিপোর্ট ॥ বাংলাদেশের উপকূলে কমপক্ষে ১০ হাজার মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এই বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ২০ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্তও হতে পারে। বাংলাদেশের বায়ু প্রবাহের গতি পর্যবেক্ষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল রিনিউয়েবেল এনার্জি ল্যাবরেটরি (এনআরইএল) এ তথ্য জানিয়েছে। বুধবার (৩০ মে) ঢাকার বিদ্যুৎ ভবনে উইন্ড ম্যাপিং এর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়। সেমিনারে জানানো হয়, ২০১৪ সালের জুন থেকে ২০১৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দেশের ৯টি স্থানে উইন্ড ম্যাপিংয়ের কাজ করে সরকার। এই ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এ সেমিনারে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম, বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউসসহ কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এনআরইএল পর্যবেক্ষণে বলছে, বাংলাদেশের নয়টি এলাকার বাতাসের গড় গতিবেগ ৫ থেকে ৬ মিটার/ সেকেন্ড। বায়ু বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের জন্য যাকে আদর্শ বলছে মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি। ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংগ্রহ করা বায়ু প্রবাহের তথ্য পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত ফলাফল জানানোর দায়িত্ব ছিল এনআরইএল এর ওপর। সরকারের উইন্ড ম্যাপিং প্রকল্পের মেয়াদ আগামী জুনেই শেষ হচ্ছে। কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম কর্মশালায় বলেন, ‘এখন আমাদের হাতে তথ্য রয়েছে। আমাদের উচিত হবে এখন দরপত্র আহ্বান করা।’ দেশের প্রকৌশলীদের এ বিষয়ে আরও প্রশিক্ষণ দিতে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন উপদেষ্টা। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার ও উৎপাদনকে আমরা উৎসাহিত করছি। এ ম্যাপিং সংক্রান্ত পরিকল্পনা, নীতিমালা তৈরি করে ফল পেতে কাজ করা প্রয়োজন।’ বিনিয়োগে আগ্রহী করতে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। এনআরইএল-এর প্রকল্প পরিচালক মার্ক জ্যাকবসন কর্মশালায় মূল প্রবন্ধে বলেন, ‘বাংলাদেশের বায়ুর প্রবাহ বিদ্যুত উৎপাদনের জন্য উপযোগী। স্বাভাবিকভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকায় ১০ হাজার মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুত উৎপাদন সম্ভব। তবে এর পরিমাণ উপকূলে বাড়িয়ে ২০ হাজার মেগাওয়াট করা যেতে পারে। আর সারাদেশে বায়ু বিদ্যুত উৎপাদনের পরিকল্পনা তাতে নিলে ৮২ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত যা বৃদ্ধি পেতে পারে।’ সবমিলিয়ে দেশের ৯টি স্থানে টাওয়ার স্থাপন করে বায়ু প্রবাহের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এক বছর থেকে ৪৩ মাস পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। নয়টি স্থানের মধ্যে ২০১৪ সালে ৫টি এবং ২০১৫ সালের ৪টি টাওয়ার স্থাপন করা হয়। টাওয়ারগুলোর মধ্যে ৪৩ মাস ধরে নাটরের লালপুরের বায়ু প্রবাহর তথ্য সংগহ করা হয়। সেখানে ৮০ মিটার উচ্চতায় বাতাসের একটানা গতিবেগ পর্যালোচনা করা হয়। একইভাবে ৪৩ মাস ধরে চাঁদপুর সদরের জাফরাবাদে টাওয়ার স্থাপন করে বায়ু প্রবাহের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেখানে ৬০ মিটার উচ্চতায় টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছিল। ২০১৪ সালের জুলাই মাসে কক্সবাজারের ইনানি বিচে স্থাপন করা টাওয়ার দিয়ে ৪০ থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত বাতাসের অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। এখানে ১২ মাসের গতিবেগ পরীক্ষা করা হয়। সীতাকুণ্ডে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ৮০ মিটারের একটি টাওয়ার স্থাপন করা হয়, সেখানে ২৪ মাস ধরে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। একই সময়ে পার্কিং বিচে একই উচ্চতার একটি টাওয়ার স্থাপন করা হয়। সেখানে ৩৬ মাস ধরে পরীক্ষা চলে। রংপুরের বদরগঞ্জে ২০ থেকে ২০০ মিটারের নানা ধরনের টাওয়ার স্থাপন করা হয়। ২০১৫ সালের আগস্টে স্থাপন করা এইসব টাওয়ার থেকে ২৪ মাসের তথ্য নেওয়া হয়। একই সময়ে ময়মনসিংহের গৌরিপুর এলাকায় ৮০মিটারের টাওয়ার স্থাপন করে ২৯ মাসের তথ্য নেওয়া হয়। হবিগঞ্জের মধুপুর চা বাগারে ২০১৫ সালের অক্টোবরে ৮০ মিটার উচ্চতার টাওয়ার স্থাপন করা হয়। সেখানে ২৬ মাস ধরে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। একই সময়ে খুলনার দাকোপে ৮০ মিটার উচ্চতার টাওয়ার স্থাপর করা হয়। ২৬ মাস ধরে এই টাওয়ারের তথ্যও যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। ৯টি স্থান থেকে তথ্য যাচাই-বাছাই করে সংগ্রহ করা হয়েছে। তথ্যসুত্র: বাংলা ট্রিবিউন

(Visited 13 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here