করোনা:বিশ্বে প্রাণহানি ৩ লাখ ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে,যুক্তরাষ্ট্রে ৯৭ হাজার

51

প্রাণঘাতি করোনায় দিশেহারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ ।কার্যকরি কোন ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত না হওয়ায় প্রকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রেকর্ড সংক্রমণে আক্রান্তের তালিকা ৫৩ লাখের উপরে ।

২২ মে শুক্রবার পর্যন্ত বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, সারা বিশ্বে ৫৩ লাখ ৬১ হাজার ৫৫ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫৪ লাখে ছুঁই ছুই। প্রাণ গেছে এখন পর্যন্ত সারা বিশ্বে  ৩ লাখ ৪০ হাজার ৪০ জন

আক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার হার অনেক কম। তারপরও সেখানে বেঁচে ফিরেছেন ২১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ।

করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে ২২ মে শুক্রবার পর্যন্ত প্রাণ গেছে ৯৭ হাজার ৬ শত ৪৭ জনের । মোট আক্রান্ত ১৬ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪ লাখ ৩ হাজার মানুষ ।

করোনার সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছে নিউইয়র্কে। যেখানে প্রাণহানি ২৯ হাজার ০৯ জন। আক্রান্ত ৩ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি। এরপরেই রয়েছে নিউ জার্সি। যেখানে ভাইরাসটি হানা দিয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজারেরও বেশি মানুষের দেহে। যাতে প্রাণ গেছে ১০ হাজার ৯৮৬ জনের।

তবে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র যদি আরও এক সপ্তাহ আগেও লকডাউন জারি করত, তবে অন্তত ৩৬ হাজার লোকের প্রাণ বেঁচে যেত। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির এ গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, আরও দুই সপ্তাহ আগে লকডাউন ও সামাজিক দূরত্ব আরোপ করা হলে বেঁচে যেতেন ৮৩ শতাংশ লোক।

নতুন এই গবেষণা ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে থাকা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য আরেকটি ধাক্কা। করোনাভাইরাসের হুমকিকে তিনি খাটো করে দেখেছেন বলে সমালোচনা রয়েছে। এমনকি তিনি তার বিজ্ঞানী উপদেষ্টাদের পরামর্শকেও উপেক্ষা করেছেন।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যানুযায়ী আজ শুক্রবার পর্যন্ত করোনার শিকার ৩০ হাজার ২০৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৪৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বেঁচে ফিরেছেন ৬ হাজার ১৯০ জন।

এদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত রাশিয়ায় করোনার শিকার ৩ লাখ সাড়ে ১৭ হাজারের বেশি। সে তুলনায় অবশ্য প্রাণহানি অনেকটা কম পুতিনের দেশে। এখন পর্যন্ত সেখানে মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ২৪৯ জনের।

করোনার হটস্পটে পরিনত হয়েছে ব্রাজিল । সমান তালে বাড়ছে আক্রান্ত ও প্রাণহানি। লাতিন আমেরিকার দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ প্রায় ৩২ হাজারের বেশী মানুষ করোনার শিকার হয়েছেন। ২১ হাজার ১ শত ১৬ জনের প্রাণ গেছে । নিয়ন্ত্রণে আসা স্পেনে আক্রান্ত ২ লাখ সাড়ে ৮০ হাজার ১১৭ জন। এর মধ্যে প্রাণহানি ২৮ হাজার ছুঁই ছুঁই।

যুক্তরাজ্যে সংক্রমণ ২ লাখ ৫৪ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে সেখানে ৩৬ হাজার ৩ শত ৯৩জন মানুষের। যা করোনায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু।

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া ও আংশিক লকডাউনে থাকা ইতালিতে প্রায় সাড়ে ৩২ হাজার ৬ শত ১৬ জন মানুষ করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন। আক্রান্ত ২ লাখ সাড়ে ২৮ হাজারের বেশি। আক্রান্ত বেড়েছে ফ্রান্সে। ইউরোপের দেশটিতে করোনা হানা দিয়েছে ১ লাখ প্রায় ৮২ হাজার মানুষের দেহে। যেখানে মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ২১৫ জনের।

প্রাণহানি ততটা না হলেও আক্রান্ত বেড়েছে জার্মানিতেও। দেশটিতে ১ লাখ ৭৯ হাজার আক্রান্তে প্রাণ হারিয়েছেন ৮ হাজার ৩৫২ জন।

এদিকে দেড় লাখ ছাড়িয়েছে তুরস্কে আক্রান্তের সংখ্যা। আংশিক লকডাউনে থাকা দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ২৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আর দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ভারতে। দেশটির সংক্রমিতের ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি। মৃত্যু হয়েছে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৭ শত ২৮ জনের।

আফ্রিকা মহাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৯৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ হাজারের বেশি মানুষ আর মৃত্যু হয়েছে ৩৩৯ জনের। তবে দেশটির বিজ্ঞানীরা বলছেন, সেখানে চলতি বছরের শেষ নাগাদ আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। মৃত্যু হতে পারে ৩৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার মানুষের।

ইরানে করোনায় প্রাণ গেছে ৭হাজার ৩ শত জনের আর আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৩১ হাজার ছড়িয়েছে ।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক মহামারি নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে। এ ভাইরাসে সারা বিশ্বে শুক্রবার পর্যন্ত সারা বিশ্বে ৫৩ লাখ ৬১ হাজার ৫৫ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

(Visited 8 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here