করোনা: হজের বিষয়ে আগামী সপ্তাহে সিদ্ধান্ত জানাবে সৌদি আরব

53

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে ওমরাহ বন্ধ রয়েছে সৌদি আরবে। আগামী মাসে হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এই মহামারির মধ্যে হজ অনুষ্ঠিত হবে কিনা সেটা এখনও বোঝা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি সৌদি আরব। তবে আগামী সপ্তাহে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এমন অবস্থায় লক্ষ লক্ষ মানুষের জমায়েত অর্থাৎ ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র হজ কি হবে? এই প্রশ্ন পুরো ইসলামিক বিশ্বে। তবে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ার মতো মুসলিম দেশগুলো হজ বাতিল করেছে আগেই।

প্রতি বছর প্রায় ২৫ লাখ মানুষ সৌদি আরবে হজ করতে যায়। এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে হজ অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে অন্তত ছয়টি দেশ জানিয়েছে তারা এ বছর হজে লোক পাঠাবে না। তবে বাংলাদেশ এখনও এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।

হজ অনুষ্ঠানের কারণে মুসলিম দেশগুলোর ওপর শুধু প্রভাবই নয় ব্যাপক সম্মান পায় সৌদি আরব। ধর্মীয় জমায়েত ঘিরে সৌদি আরবে, প্রায় ২৫ লাখ মানুষের সমাগম হয়। এ বছর ২৮ জুলাই থেকে হজ শুরুর কথা। সৌদি সরকার চাইছে এটা সামনে এগিয়ে নিতে। হজ থেকে প্রতি বছর ৫ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আদায় করে সৌদি সরকার।

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে হজ। প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিমের ওপর জীবনে অন্তত একবার হজ করা ফরজ। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে হজ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কিন্তু সৌদি সরকার হজ অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আগ্রহী বলে জানা গেছে। আগামী ২৮ জুলাই চলতি বছরের হজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মহামারির কারণে চলতি বছর হজ হবে কিনা আগামী সপ্তাহে সিদ্ধান্ত জানাবে সৌদি আরব।এদিকে সৌদি আরব রবিবার ২১ শে জুন থেকে দেশজুড়ে কারফিউ তুলে নিয়েছে। তবে বাদবাকি কড়াকড়ি বহাল থাকবে। আর্থিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে, কিন্তু আন্তর্জাতিক যাতায়াত বন্ধ থাকবে।

মে মাসের শেষদিকে লকডাউন শিথিল করে সৌদি আরব। কিন্তু দেশটিতে দ্বিতীয় দফায় করোনার সংক্রমণ শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হজ বাতিল হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদি এমনটা ঘটে, তাহলে গত ৯০ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম হজ বাতিল।

 এদিকে, ওয়ার্ল্ডওমিটারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৫ জন। মারা গেছেন ১ হাজার ৩০৭ জন।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওমরাহ হজ, ভ্রমণ ভিসা, বিদেশ থেকে আসা বা দেশ থেকে বিদেশে যাওয়াসহ সব ধরনের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ থাকবে।ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াসহ ১৩টি দেশ হজে লোক না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ, মিসর, মরক্কো, তুরস্ক, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, লেবানন ও বুলগেরিয়া বলেছে, তারা এখনো সৌদি আরবের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। ফ্রান্সের মুসলিম ধর্মীয় নেতারা করোনা ঝুঁকির কারণে এ বছর হজ বাতিলের অনুরোধ জানিয়েছেন।

(Visited 7 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here