জেনে নিন কে এই আলোচিত বহুমুখী প্রতারক শা‌হেদ ?

311

বিভিন্ন টিভিতে মধ্যরাতের টকশোতে এসে নীতিবাক্য বলে নিজেকে বুদ্ধিজীবি এবং আওয়ামী লীগের বড় নেতা জাহির করা বহুমুখী প্রতারক শা‌হেদ দীর্ঘ অনেক বছর ধ‌রে তার প্রতারণা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে ।

বর্তমানে মোঃ শাহেদ/সা‌হেদ হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকলেও তার আসল নাম কিন্তু মোঃ শাহেদ করিম, পিতাঃ সিরাজুল করিম, মাতাঃ মৃত সুফিয়া করিম। শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএস‌সি। তার মা মৃত্যুবরন করেন ৬ নভেম্বর, ২০১০ সালে।

প্রতারক শা‌হে‌দের একাধিক নাম রয়েছে। সে কখনো কখ‌নো মেজর ইফতেকার আহম্মেদ চৌধুরী, ক‌র্ণেল ইফতেকার আহম্মেদ চৌধুরী, কখ‌নো মেজর শাহেদ করিম হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে। কিন্তু তার আসল নাম জাতীয় পরিচয় পত্রে শাহেদ করিম লেখা। কিন্তু বর্তমানে সে মোঃ শাহেদ নামে আরেক‌টি জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করছে যার নাম্বার হল- ২৬৯২৬১৮১৪৫৮৮৫। আর এ জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হয় ২৫/৮/২০০৮ইং। কিন্তু তাতে তার মা মারা গেছে লেখা রয়েছে, অথচ তার মা মৃত্যুবরন করেন ০৬ নভেম্বর ২০১০ইং। তাতেই প্রমাণ হয় এটাও ভুয়া। ঠিকানা হরনাথ ঘোষ রোড, লালবাগ, ঢাকা-১২১১ রয়েছে।

গ্রামের বাড়ী সাতক্ষীরা জেলায়। এক নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান হয়েও প্রতারণা বাটপারি করে আজ শত শত কোটি টাকার মালিক।

টিভির টক-শো বুদ্ধিজীবী ভিআইপি প্রতারক সাহেদ করিম এখনো গ্রেফতার না হলেও একে একে বেড়িয়ে আসছে তার নানা অপকর্মের চিত্র। শুধু সুন্দরী নারীকে ব্যবহার করে কাজ বাগিয়ে নেয়া নয়; পাশাপশি সে ব্যক্তিগত জীবনেও বহুরূপী প্রতারক। করোনা পরীক্ষার জালিয়াতি প্রকাশের পর সাদিয়া আরাবি নামের এক স্ত্রীর পরিচয় জানা গেলেও তার রয়েছে আরো দুই স্ত্রী এবং রিজেন্ট হাসপাতালের বিশেষ রুমে ওই স্ত্রীদের নিয়ে সময় কাটাতেন বলেও অফিসের একাধিক কর্মচারী সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছেন।

প্রতারক সাহেদের সহকর্মীরা বলছেন, সাদিয়া আরাবি ছাড়াও তারা সাহেদের আরো দুই স্ত্রী দেখেছেন। এদের একজনের নাম চৈতি। এছাড়া লিজা ও মার্জিয়া নামে সাহেদের অফিসে দুই নারী কর্মকর্তা আছেন। তাদের একজন তার বিয়ে করা বউ বলেও সন্দেহ কর্মীদের। একাধিক স্ত্রী থাকলেও পরস্পরের কাছে বিষয়টি এত দিন গোপন করে রাখা হয়েছে। তদন্তকারী ও সহকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, লিজা ও মার্জিয়া ছাড়াও সাদিয়া ও হিরা মণি নামে দুই তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল সাহেদের। পাসওয়ার্ড দেয়া প্রাইভেট রুমে কেবল তাদেরই অবাধ প্রবেশাধিকার ছিল। কাজ হাসিল করতে সুন্দরী পাঁচ বান্ধবীকে বিভিন্ন জায়গায় পাঠাতেন সাহেদ।

১/১১ ফকরু‌দ্দিন সরকা‌রের সময় সে ২ বছর জেলও খাটে। জেল থে‌কে বের হ‌য়ে শা‌হেদ ২০১১ সালে ধানমন্ডির ১৫ নং রোডে এমএলএম কোম্পানী বিডিএস ক্লিক ওয়ান নামে বাটপারী ব্যবসা প্র‌তিষ্ঠান খু‌লে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা ক‌রে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। আর সেসময় তার নাম ছিল মেজর ইফতেখার করিম চৌধুরী।

তার বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় ২টি মামলা, বরিশালে ১ মামলা, বিডিএস কুরিয়ার সার্ভিসে চাকরির নামে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণার কারনে উত্তরা থানায় ৮টি মামলাসহ রাজধানীতে ৩২টি মামলা রয়েছে।

অন্যদিকে, সে মার্কেন্টাইল কো- অপারেটিভ ব্যাংক বিমানবন্দর শাখা থেকে ৩ কোটি টাকা লোন নেয় আর সেখানে সে নিজেকে কর্ণেল (অব.) পরিচয় দিয়ে কাগজপত্র দাখিল করেন সে ব্যপারে আদালতে ২টি মামলা চলমান আছে। এ সম্প‌র্কে একুশে টিভি ২০১৫/১৬ সা‌লে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করে।

এই প্রতারক মোঃ শাহেদ ওরফে ‌মেজর/ক‌র্ণেল ইফতেখার আহম্মেদ চৌধুরী, ওরফে শাহেদ করিম, ওরফে মোঃ সাহেদ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকা‌রের বি‌ভিন্ন মন্ত্রী ও কর্তা ব্য‌ক্তি‌দের কা‌ছের লোক পরিচয় দিয়ে থাকে। প্রকা‌শ্যে অনেক মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করেই মানুষকে হুমকি দিয়ে থাকে।

তার গাড়ীতে ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড ও সাইরেনযুক্ত হর্ন ব্যবহার করে। সে নিজেকে কখনো মেজর, ক‌র্ণেল, সচিব, এমনকি সে নাকি ৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর এডিসি ছিলো এমন পরিচয়ও দিয়ে থাকে। আবার কিছুদিন যাবৎ সে বিভিন্ন টিভিতে টকশোতে খুব নীতিবাক্য বলে।

বর্তমানে সে উত্তরাস্থ ১১ নং সেক্টরের ১৭ নং রোডে, বাড়ী নং-৩৮ একটি হাসপাতাল গড়ে তুলেছে যার কোন বৈধ্য লাইসেন্স নেই, যা র‌্যাব এর অভিযানেই প্রমানিত হয়েছে আর হাসপাতাল চালা‌নোর মত কোন ডাক্তার, নার্স, যন্ত্রপা‌তি নেই তবুও দালালের মাধ্যমে টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল ক‌লেজ হাসপাতাল থেকে রোগী ক্রয় করে এনে তাদের আটকিয়ে রেখে হাজার হাজার টাকা আদায় করে।

এছাড়াও প্রতারণার টাকায় সে উত্তরা প‌শ্চিম থানার পা‌শে গ‌ড়ে তু‌লে‌ছে রিজেন্ট কলেজ ও ইউনির্ভাসিটি, আরকেসিএস মাইক্রোক্রেডিট ও কর্মসংস্থান সোসাইটি যদিও এর একটিরও কোন বৈধ লাইসেন্স নেই। আর অনু‌মোদনহীন আরকেসিএস মাইক্রোক্রেডিট ও কর্মসংস্থান সোসাইটির ১২টি শাখা করে হাজার হাজার সদস্যদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।

এর আগেও সে উত্তরাস্থ ৪,৭ ও ১৩ নম্বর সেক্টরে ভুয়া শিপিংয়ের ব্যবসা করেছে সেই ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামেই সাধারন মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে মেরে দিয়েছে। বর্তমানে তার ভিজিটিং কার্ডে সে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান প‌রিচয় দেয়। কিছুদিন আগে সে এক‌টি অস্ত্রের লাইসেন্সও নিয়েছে। অথচ অস্ত্রের লাই‌সেন্স কর‌তে বাৎস‌রিক ন্যূন্যতম ৩ লক্ষ টাকা ইনকাম ট্যাক্স দেওয়া লা‌গে।

সুত্রমতে, সে কোনদিনও ইনকাম ট্যাক্স দেয় না। শা‌হে‌দের প্রতারনা সর্ম্পকে দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় ১১-১২-২০১৪ইং একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় এবং অপরাধ জগত প‌ত্রিকাও নিউজ ক‌রে। শা‌হে‌দের বেশ ক‌য়েক‌টি গাড়ি রয়েছে সে গাড়িগুলোর কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। তার গাড়ী‌তে ভি‌ভিআই‌পি ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড, অবৈধ ওয়ারল্যাস সেট আর অস্ত্রসহ ৩ জন বডিগার্ড থাকার কারনে সাধারণত পুলিশ তার গাড়ী থামাবার সাহস পায়না।

তার অফিসে লাঠিসোটা রাখা হয়। এমনিক তার অফিসের ভেতরে একটি টর্চার সেলও রয়েছে। কোন পাওনাদার টাকা চাইতে আস‌লে পাওনাদার‌দের সেখা‌নে টর্চার করা হয়। তার অফিসে সুন্দরী মেয়েদের রাখা হয় বেশী আর অনেক সুন্দরীর সাথে তার অবৈধ সর্ম্পক র‌য়ে‌ছে।

তার বিরুদ্ধে ৩২ টি মামলা রয়েছে দেশের বিভিন্ন থানায় এর মধ্যে ধানমন্ডি, মিরপুর, উত্তরায় বেশী সেগুলোর ক‌য়েক‌টি মামলার নং- বাড্ডা- ৩৭(৭)০৯, আদাবর-১৪(৭)০৯, লালবাগ-৪৭(৫)০৯, উত্তরা ২০(৭)০৯, উত্তরা১৬(৭)০৯, উত্তরা ৫৬(৫)০৯, উত্তরা ১৫(৭)০৯, ৩০(৭)০৯, ২৫(৯)০৯, ৪৯(০৯)০৯, ১০(৮)০৯ সবগুলো মামণাআ ৪২০ ধারায়।

তার প্রতিষ্ঠান রিজেন্ট কেসিএস লিঃ ইউসিবি ব্যাংক উত্তরা শাখায় একাউন্ট নং-০৮৩২১০১০০০০১০০০৩, রিজেন্ট হাসপাতাল লিঃ ইউসিবি ব্যাংক উত্তরা শাখায় একাউন্ট নং-০৮৩১১০১০০০০০০৬১৬, সহ ব্র্যাক ব্যাংক উত্তরাসহ বিভিন্ন ব্যাংকে শত শত কোটি রয়েছে।

এদিকে,করোনাভাই’রাসের নমুনা পরীক্ষা ও আ’ক্রান্ত রো’গীদের চিকিৎসা দেয়ার নামে প্র’তারণা করা রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মো. সাহেদের পাসপোর্ট জ’ব্দ করেছে ত’দন্তকারী দল। হদিস মিলেছে তার বি’রুদ্ধে আরও ২৩ মা’মলার। সর্বমোট ৫৬টি মা’মলার আ’সামি প্র’তারক সাহেদ।

বর্তমানে সে রি‌জেন্ট গ্রুপ ও কর্মসংস্থান সোসাইটি কেকেএসের নামে প্রতিষ্ঠান বাড়ী ১৬ রোড ১৭ সেক্টর ১১ উত্তরা ঢাকায় বসে সকল অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যরাতে ‌বি‌ভিন্ন টিভির টকশোতে এমন নীতিবাক্য বলে যা দেখে হাসি পায়। যে নিজে মহাচোর আর সেই টক‌শো‌তে ব‌সে অন্যকে বলে তুই চোর। অবাক লাগে ৩২ মামলার আসামি আজ নাম পাল্টিয়ে টকশোতে ব‌সে জা‌তি‌কে নী‌তিবাক্য আর রাজনী‌তির সবক দেয়।

(Visited 77 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here