বাংলাদেশে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন মুক্ত হলেন ডা. ফেরদৌস

126

মোশারফ চেীধুরী: প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে যু’ক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে সাফল্য পাওয়া বাংলাদেশি চিকিৎসক ডা. ফেরদৌস খন্দকার । তিনি গত ৭ই জুন রবিবার করোনা বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মানুষের সেবা করতে মা ও মাতৃভুমির টানে বাংলাদেশে যান । বাংলাদেশে সেবা দিতে গিয়েই হেনস্তার মুখে পড়েছেন নিউইয়র্কের খ্যাতিমান মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ফেরদৌস খন্দকার। পরে সেখান থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে নিয়ে যায় । যদিও তার করোনা নেই এই মর্মে নিউইয়র্কের অন্য একজন চিকিৎসকের সনদ ছিল।

আজ ২১শে জুন ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন শেষ হলে তিনি কোয়ারেন্টাইন মুক্ত হলাম র্মমে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন নিচে হুবুহু সেই জবাব তুলে দেয়া হলো:

ডা. ফেরদৌস খন্দকারের ফেসবুক স্ট্যাটাস

কোয়ারেন্টাইন মুক্ত হলাম আমি (মায়ের কাছে কোনো অভিযোগ নেই আমার)

অবশেষে কোয়ারেন্টাইন মুক্ত হলাম আমি। কেটে গেলো ১৪টি দিন। সময়তো কাটবেই। থেকে যাবে কেবল স্মৃতি। এই মুহূর্তে কোন অভিযোগ নয়, কেবল ধন্যবাদই দিতে চাই সবাইকে। যারা গত ১৪টি দিন আমার সাথে ছিলেন। বিভিন্নভাবে সহায়তা দিয়েছেন, মানসিকভাবে শক্ত থাকতে প্রেরণা জুগিয়েছেন। তবে একথা আমাকে বলতেই হবে যে, শুরুটা বেশ কঠিনই ছিল আমার জন্যে। আমার বিরুদ্ধে “অহেতুক” এবং “মিথ্যা অভিযোগে” বিরাট ঝড় উঠেছিল। সব ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ঝড়ও হয়তো থেমে গেছে।

যা বলছিলাম, দেশে আসার পর আমাকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে দেয়া হয়েছে; এই বিষয়টি আমি প্রথম পাঁচদিন মানতেই পারছিলাম না। কেননা আমার এন্টিবডির সনদ ছিল। তখন মানসিকভাবে রীতিমতো বিদ্ধস্ত হয়ে পড়েছিলাম। পরিবার, সহকর্মী, বন্ধু, সুধীজন, ছাত্রলীগের সহযোদ্ধারা, সাংবাদিক এবং দেশের মানুষের সহায়তা ও সমর্থণ আমাকে সাহস জুগিয়েছে।

দেশে এসেছিলাম কয়েক সপ্তাহ দেশবাসীর জন্যে কাজ করবো বলে। সাথে ছোট্ট একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে তুলে যাবো, এমন আশা ছিল। সেই লক্ষ্যেই দুই থেকে তিন সপ্তাহের জন্যে এসেছিলাম। যদিও সময় কিছুটা ক্ষেপন হয়ে গেছে। এরপরও আমি মনে করি, কোন আক্ষেপ নেই আমার। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কিছুটা কাজ করে এবার চলে যেতে চাই। তবে সাথে নিয়ে যাবো গত দুটি সপ্তাহে ঘটে যাওয়া অনেক কিছু ও অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে যেসব সৈনিক ভাইয়েরা আমার সাথে ছিলেন, তারা অনেক ভালোবাসা দিয়েছেন। অনেক সহযোগিতা করেছেন। আপনাদের মমতা কোনদিন ভুলবার নয়। সেই সাথে কুয়েত প্রবাসী কিছু ভাই শেষের দিকে কোয়ারেন্টাইনে যোগ দিয়েছিলেন। তাদের ভালোবাসায় ভরা স্মৃতিগুলোও বাকি জীবন আমার সাথে থাকবে। কখনো যদি দেখা হয়, নিশ্চয়ই ভালো লাগবে; বুকে জড়িয়ে ধরবো আপনাদের। দেখা না হলেও, আপনাদেরকে আমার সবসময় মনে থাকবে।

দেখুন আমি অতি সাধারণ একজন চিকিৎসক। তবে দেশকে, দেশের মানুষকে খুব ভালোবাসি। এসেছিলাম, দূর্যোগের এই সময়টায় কেবলই দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। কোন রাজনৈতিক অভিলাষ বা ইচ্ছা আমার ছিল না; নেইও। ফলে যারা তেমনটি ভেবেছিলেন, আশা করছি আপনাদের ভুলটা ভেঙেছে। বাংলাদেশের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সম্মুখসারির যোদ্ধারা করোনার এই সময়টায় রীতিমতো জীবন বাজি রেখে লড়াই করছেন। তাদের আত্মত্যাগ, এই জাতি সবসময়ই মনে রাখবে। সামনের দিনগুলোতেও তারা এমনিভাবে লড়ে যাবেন বলে আমার বিশ্বাস।

আমি এই মুহূর্তে স্বাস্থ্য বিষয়ক ছোট্ট একটি সেটআপ করে দ্রুতই নিউইয়র্কে ফিরে যাবো। কারো বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই। মায়ের বিরুদ্ধে সন্তানের কোন অভিযোগ থাকে না। আমারো নেই। আবারো দেখা হবে। ভালোবাসা বাংলাদেশ। সবাই ভালো থাকুন। নিরাপদে থাকুন। আপনাদের মঙ্গল হোক।

উল্লেখ, ডা. ফেরদৌস খন্দকার বাংলাদেশে যাচ্ছেন- এমন খবর প্রচারের পর থেকেই একদল লোক ফেসবুক ও অন্যান্য কিছু মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে নানান অপপ্রচার শুরু করে। তাদের অভিযোগ ডা. ফেরদৌস খন্দকার খুনি মোশতাকে ভাতিজা এবং খুনি কর্নেল রশিদের খালাতো ভাই। বাংলাদেশে তার যাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। এয়ারপোর্ট থেকেই এসবের প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের ফেসবুকে তার জবাব দিয়েছেন তিনি।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের হলিউড যখন প্রাণহীন, বিশ্বখ্যাত নায়ক-নায়িকারা ঘরবন্দি, কঠিন ওই সময়ে হলিউডের নায়কদের এড়িয়ে সামনে চলে আসেন আরেক নায়ক। তিনি চলচ্চিত্রের নায়ক নন, নিউ ইয়র্কে করোনাযুদ্ধের অসামান্য এক নায়ক। মানুষের প্রাণ বাঁচানোর নায়ক ডা. ফেরদৌস খন্দকার। জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া ডা. ফেরদৌসের বীরোচিত ভূমিকার কথা এখন আমেরিকার বাংলাদেশি প্রবাসীদের মুখে মুখে।মৃ’ত্যুর ভ’য়ে যেখানে অসংখ্য চিকিৎসক তাদের চেম্বার বন্ধ করে দিয়েছেন, সেখানে জীবনের ঝুঁ’কি নিয়ে দৈনিক ১৮ ঘণ্টা বিরামহীন সেবা দিয়েছেন ডা. ফেরদৌস।

(Visited 44 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here