প্রতিবাদ বিক্ষোভে উত্তাল আমেরিকা, বাঙ্কারে ছিলেন ট্রাম্প

233

এ কিউ জয় নিউইয়র্ক : পুলিশের নির্যাতনে জর্জ ফ্লয়েড নামের একজন কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যুর পর প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো যুক্তরাষ্ট্র। প্রবল বিক্ষোভ ও সহিংসতার মুখে শহরের পর শহরজুড়ে কারফিউ জারি করা হলেও তা মানছেন না প্রতিবাদকারীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি ভয়াবহ রকমের অবনতি হয়েছে। হোয়াইট হাউজের চারপাশ ঘিরে ফেলেছে বিক্ষোভকারীরা। প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সিক্রেট সার্ভিস, ন্যাশনাল গার্ড আর্মি ও পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রত্যাশা করছি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে এবং প্রেসিডেন্ট সহ আমরা সবাই নিরাপদ থাকবো।শুক্রবার রাতে ওয়াশিংটন ডিসির প্রতিবাদকারীরা হোয়াইট হাউসের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখায়। এক পর্যায়ে হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিক্রেট সার্ভিস ও যুক্তরাষ্ট্রের পার্ক পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় তারা। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দিকে বোতল ও পাথর ছুড়ে মারে বিক্ষোভকারীরা, দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধ্বস্তধ্বস্তিও হয়।

বিক্ষোভের মধ্যে নিরাপত্তার প্রয়োজনে শুক্রবার সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হোয়াইট হাউজের আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যাংকারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। হোয়াইট হাউজ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বরাতে এ খবর দিয়েছে সিএনএন। তবে এসময় ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ও তাদের শিশুপুত্র ব্যারন ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন কি-না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউজের চারপাশে এখনও হাজার হাজার বিক্ষোভকারী অবস্থান করছেন।

ঘটনাটির বিষয়ে সরাসরি অবগত, এমন একজনের উদ্ধৃতি দিয়ে খবরটি জানিয়েছে তারা।

রোববার ওয়াশিংটন ডিসিসহ দেশটির ৪০টি শহরে কারফিউ জারি করা হয়। কিন্তু প্রতিবাদকারীরা কারফিউ ভেঙে বিক্ষোভ দেখায়, পুলিশের গাড়ি ভাংচুর করে ও তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ও পেপার বুলেট ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের সরানোর চেষ্টা করে।

ওয়াশিংটন ডিসিসহ যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি রাজ্যে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছ। বাহিনীটির আরও দুই হাজার সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এক সপ্তাহ আগে বর্ণবাদবিরোধী এ বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কয়েকশ লোককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগ তাদের চার কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করে। এদের মধ্যে ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু তুলে দেওয়া ৪৪ বছর বয়সী ডেরেক শভিনও আছেন।

শুক্রবার গ্রেপ্তার করার পর শভিনের বিরুদ্ধে ফ্লয়েডকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে পুলিশের হেফাজতে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি মারা গেলে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এরপর তা ব্যাপক দাঙ্গায় রূপ নেয়। আজ রোববার ষষ্ঠ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টিরও বেশি স্টেটের অন্তত: ৪০টি শহরে সহিংসতা চলছে। বিভিন্ন স্থানে নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী।

(Visited 100 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here