মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের সর্বাত্মক যুদ্ধ

35

জঙ্গিবাদ নির্মূলের মতোই সমাজকে মাদকমুক্ত করতে বদ্ধপরিকর সরকার। দেশ এই মুহুর্তে মাদকের বিষাক্ত ছোবলে আক্রান্ত হতে চলেছে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ‘জিরো ট্রলারেন্স’নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। এরই অংশ হিসাবে সারাদেশে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করেছে সরকার। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। একই মনোভাব জানা গেছে সরকারের নীতি নির্ধারক হিসেবে বিবেচিত আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতাদের মধ্যেও।

ক্ষমতাসীন দলের নীতি-নির্ধারকরা জানিয়েছেন, মাদকের ছোবলে একেকটি পরিবার নিঃস্ব হতে চলেছে। একজন মাদকসেবী একটি পরিবারের বিষফোঁড়া। সবচেয়ে বড় সংকট দেশের সম্ভাবনাময় তরুণ সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে মাদকের বিষাক্ত ছোবলে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে স্বল্প সময়ে দেশ মেধাশূন্য হয়ে পড়বে। উন্নয়ন,অগ্রযাত্রায় সম্ভাবনাময় তরুণ সমাজ দেশের বোঝায় পরিণত হবে। এসব নানা বিবেচনায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এমনকি মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনাতেও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সায় রয়েছে বলে নীতি-নির্ধারণী সূত্রগুলো জানিয়েছেন।

দলের নীতি নির্ধারণী কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,সরকার প্রধান শেখ হাসিনা দেশকে মাদকমুক্ত করতে যে কোনও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বদ্ধপরিকর। এরই অংশ হিসাবে প্রথমে মাদক ব্যবসায়ীদের টার্গেট করেছে সরকারের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীমাদক বিরোধী অভিযানে নিহত একজন (ফাইল ছবি) । জানা গেছে, সারাদেশে অন্তত কয়েকশ’ মাদক ব্যবসায়ীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লক্ষ্য, মাদকের যে পসরা সাজিয়েছে ব্যবসায়ীরা সেখানে আঘাত আনা।

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুই মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, সমাজ থেকে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী নির্মূলে সরকারের হাতে এরচেয়ে বড় কোনও বিকল্প পদক্ষেপ নেই।

ওই দুই মন্ত্রী বলেন,অনেক ভেবে-চিন্তে এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরামর্শে সমাজকে মাদকমুক্ত করতে তাদের সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপের ব্যাপারেও সরকার সায় দিয়েছে। সমাজে মাদকের ছোবল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাদক ব্যবসায়ীদের কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। ফলে মাদকসেবীদের সংখ্যাও দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। এর লাগাম টানতে সাময়িক ক্রসফায়ারে সায় দিয়েছে সরকার। এছাড়া লাগাম টানতে আর কোনও পদক্ষেপ আপাতত দেখছে না সরকার।

আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দুই জন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকার জেহাদ ঘোষণা করেছে। দেশের তরুণ সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করতে সরকার সাময়িকভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ‘বন্দুকযুদ্ধে’ও সায় দিয়েছে।

ওই দুই নেতা আরও বলেন, দেশের তরুণ সমাজ আমাদের সম্পদ এটা সরকার মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে। সেই তরুণ সমাজকে রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কখনও কখনও নির্মোহ সিদ্ধান্ত সরকারকে গ্রহণ করতে হয়। এক্ষেত্রে তাই ঘটেছে।

(Visited 1 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here