প্রাণ কোম্পানীর বর্জ্যে অতিষ্ট ৪০ গ্রামের মানুষ

102

NYB News24 ডেস্ক : হবিগন্জ জেলার অলিপুরে স্থাপিত প্রাণ কোম্পানীর বিষাক্ত বর্জ্য অবাধে সুতাং নদী দিয়ে নিষ্কাশন হওয়ায় নদীর দু’পাশের কমপক্ষে ৪০ গ্রামের মানুষ দিন দিন অতিষ্ট হয়ে ওঠেছে। এছাড়াও বর্জ্যে বিষাক্ত রাসায়নিক থাকার ফলে নদীর মাছ মরে ভেসে উঠছে।

পানি খেয়ে গবাদী পশু মরে যাচ্ছে। মাছ খেয়ে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। দুর্গন্ধে নদী পাড়ের মানুষ বিভিন্ন ধরণের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

গ্রামগুলোতে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক বিপর্যয়ের পাশাপাশি উদ্বেগজনক মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

কলকারখানার দূষিত বর্জ্য নদীতে ফেলার কারণে পানি কালো হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। হাজার হাজার জেলেদের আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কৃষি কাজ চাষাবাদে নদীর পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কালো পানি ব্যবহারের কারণে ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। হাঁস-মোরগ মারা যাচ্ছে। যে জন্য গ্রামগুলোতে হাঁস-মোরগ পালন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। চর্মরোগসহ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান- আমরা এ থেকে মুক্তি চাই। এ জন্য প্রশাসন ও কোম্পানীর উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান তারা।

ভোক্তভোগিরা জানান- শৈলজুড়া খাল সুতাং নদীর সঙ্গে সংযোগের কারণে অন্যান্য খালসহ সুতাং নদীর পানি দূষিত ও দুর্গন্ধময় হয়ে পরিবেশ ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোল হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, কয়েক বছর ধরে কারখানা থেকে বিষাক্ত বর্জ্য সুতাং নদীসহ খাল-জলাশয়ে নিক্ষেপ করা হচ্ছে। ফলে একদিকে ক্ষতি হচ্ছে আমাদের পরিবেশ-প্রতিবেশ ও কৃষি জমি, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। তাই পরিবেশ সচেতন মানুষের পক্ষ থেকে দাবি, দূষিতবর্জ্য নিষ্কাশন রোধে অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হউক এবং একই সঙ্গে সুতাং নদী পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হউক।

(Visited 3 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here